জিলহজ্ব মাস শুরু হলেও এখনও হাটগুলোতে কোরবানির পশুর বেচাকেনা
সেভাবে জমে উঠেনি। পশুর হাটে লোকজনের ব্যাপক সমাগম থাকলেও স্বল্প
সংখ্যক বেচাকেনা হলেও বেশিরভাগ ক্রেতাই দরদামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ
থাকছে। তবে স্থানীয় খামারগুলোতে কোরবানির জন্য গরু ও ছাগল
বেচাকেনা শুরু হয়েছে প্রায় ১৫ দিন আগে থেকে। হাটে দালালের
দৌরাত্ম, ঝক্কি-ঝামেলা এবং বাড়তি খরচ থেকে বাঁচতে ক্রেতারা খামারে
বেশি ভিড় করছেন। খামারগুলো পারিবারিকভাবে পরিদর্শন, কোরবানি
পর্যন্ত খামারে গরু-ছাগল রাখা, সেখানেই পশু কোরবানির ব্যবস্থা, পশু
অসুস্থ হলে ক্ষতিপূরণ এবং মারা গেলে সমুদয় টাকা ফেরতসহ নানা
সুবিধা দিয়ে কোরবানির পশু বিক্রি করছেন খামারিরা। ফলে এসব
কারণেই ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।এমনই সুবিধা দিয়ে
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ি এলাকায় ইউসুফ ডেইরি ফার্ম
কোরবানির গরু-ছাগল বিক্রি করছে। এ খামারে গরু রয়েছে ১৫০টির
মতো। দিনরাত ২৪ ঘন্টা যত্ন সহকারে লালন-পালন করা সবগুলোই দাঁতওয়ালা
ষাড়। প্রকার ভেদে এসবের মূল্য সর্বনিম্ন ৬০ হাজার টাকা থেকে
সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে খামারটিতে। ইতিমধ্যে ৮০টি
গরু কোরবানির জন্য বুকিং দিয়েছেন ক্রেতারা। খামারের মালিক জামিল
আশরাফ মিন্টু জানান, ছেলের নামে গড়া আমার এই খামারে ৫/৬ মাস
আগে বিভিন্ন হাটবাজার থেকে উন্নত জাতের গরু ও ছাগল কিনে
প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করে হৃষ্টপিষ্ট করে তুলেছি। তিনি বলেন,
সকলের দোয়া ও ভালোবাসায় অত্যন্ত সুনামের সাথে এক যুগেরও বেশী
সময় থেকে এ ব্যবসা করছি। খামারে থাকা গরু ও ছাগলকে কোনো
ক্ষতিকারক ইনজেকশন বা হরমোন দেওয়া হয় না। নিয়মিত যত্ন, পুষ্টিকর
খাবার দেওয়া এবং গোসল করানোসহ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রাখার মাধ্যমে
পশুগুলোকে সুস্থ ও নাদুস-নুদুস করে তোলা হয়। তিনি জানান, খামারে
তাঁর সংগ্রহে রয়েছে দেশি, শংকর, শাহিবল জাতের গরু। বিশেষ করে
সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খুদের ভাত, আলু সিদ্ধ, মসুর, খেসারি ডাল,
চোকর, বুটের খোসা, ভুট্টা, গম ইত্যাদি খাবার খেয়ে হৃষ্টপিষ্ট করা
হয়েছে বলে যোগ করেন তিনি।খামারটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কোরবানির গরু
কেনার পর খামারে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। খামারেই গরু কোরবানিসহ
বাসাবাড়িতে মাংস পৌঁছানোর সুবিধা রয়েছে। এসব নানা কারণে
খামারে ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ছে। দামও তুলনামূলক কম হওয়ায় ও
পারিবারিকভাবে পরিদর্শনের সুযোগ থাকায় প্রতিনিয়ত ভিড় বাড়ছে
ক্রেতাদের। তিনি বলেন গরু মোটাতাজা করণে কোনো রাসায়নিক ও
হরমোন ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়না। গরুকে খাওয়ানো হয় চালের খুদ,
ডালের গুড়া, চোকর, নেপিয়ার ঘাস, আলু, ছোলার খোসা, খৈল
প্রভৃতি।সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সময় টিভির স্টাফ
রিপোর্টার আ. ফ.ম সাকির হোসেন বাদল বলেন, পরিশ্রমী ও পরিচ্ছন্ন
ব্যবসায়ী জামিল আশরাফ মিন্টুর খামার থেকে প্রতিবছর কোরবানির
গরু কিনে থাকি। এবারও কিনে খামারে রেখেছি। ওই খামার থেকে
ইসলাম, শাওন, ডা. হাজী জয়নাল আবেদীন, আমিনুল, মুজিবুল হক,
মোনায়েনুল হক মো. রায়হানসহ অনেকেই কোরবানির গরুর বুকিং
দিয়েছেন। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারাও গরু
কিনেছেন এখানে।সৈয়দপুর প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা
ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আব্দুল করিম জানান, ইউসুফ ডেইরি
ফার্মটি মুলত কোরবানিকে টার্গেট করে গরু লালন-পালন করে থাকে।
বাণিজ্যিকভাবে ফার্মটি গড়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা
সৈয়দপুর প্রাণি সম্পদ বিভাগ দিয়ে থাকে। ইউসুফ ডেইরি ফার্মের
উদ্যোগ কে আমরা স্বাগত জানাই।


