উন্নয়নের ছোঁয়া সৈয়দপুর পৌরসভায় জলাবদ্ধতা, যানজট নিরসনসহ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় বদ্ধ পরিকর পৌর প্রশাসক

0
17

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উপজেলা প্রশাসনের দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি
সৈয়দপুর পৌর এলাকার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন পৌর
প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা।
রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ শহরকে যানজট মুক্ত রাখাসহ , জলাবদ্ধতা নিরসন
এবং শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে তিনি বদ্ধপরিকর। আর এসব বাস্তবায়নে
পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সুত্র জানায়, প্রায় ৩৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রথম শ্রেণীর এ
পৌরসভায় ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মেয়র ছিলেন
তৎকালীন আওয়ামীলীগ নেত্রী রাফিকা আকতার জাহান। কিন্তু পৌরসভার
উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি না করে খেয়াল খুশি মতো পৌর
পরিষদ পরিচালনা করেছেন। ব্যস্ত ছিলেন নিজের পকেট ভারী করতে। ফলে
উন্নয়নের বদলে পৌরসভা পরিণত হয়েছিল অবহেলার নগরীতে। তবে ২৪ এর
গনঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনপ্রতিনিধি না থাকায়
পৌরসভা পরিচালনায় প্রশাসক নিয়োগ দেন। প্রথমে প্রশাসকের
দায়িত্ব পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর ই আলম সিদ্দিকী। পরে
তার বদলী হলে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ইউএনও হয়ে আসেন ফারাহ
ফাতেহা তাকমিলা। ওইদিন থেকেই পৌর প্রশাসক হিসেবে কাজ শুরু
করেন তিনি।
পৌরসভার সুত্র জানায়, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সৈয়দপুর
পৌরসভাকে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে নানামুখী পদক্ষেপ নেন।
এসবের মধ্যে শহরের প্রধান সমস্যা যানজট নিরসনে দিনের বেলা শহরে
ভারী যানবাহন প্রবেশ বন্ধে বিভিন্ন পয়েন্টে লোহার ব্যারিয়ার স্থাপন,
সড়কের দুপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত
করতে যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে উচ্ছেদ অভিযান, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে
প্রতিটি ওয়ার্ডে ছোট বড় ড্রেন ও নালা নিয়মিত পরিস্কার
পরিচ্ছন্নতা এবং মশক নিধন অভিযানসহ শহরের অন্যান্য সমস্যা
সমাধানে সুধিজনদের নিয়ে বৈঠক।
সৈয়দপুর পৌরসভা কর্মচারি এসোসিয়েশনের সভাপতি আবু তাহের ও
সাধারন সম্পাদক সুজন শাহ বলেন, বর্ষা মওসুমকে সামনে রেখে
জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌর প্রশাসকের তদারকিতে ড্রেন ও নালা নিয়মিত
পরিস্কার করা হচ্ছে। বিশেষ করে গোলাহাট কবরস্থানের রেললাইনের পার থেকে
পূর্ব দিকে ১৩৫ মিটার ড্রেনে ময়লা জমে পানি প্রবাহ বন্ধ ছিল।
সেটি পরিস্কার না হওয়ায় গোলাহাট এলাকার একটি বড় অংশ সামান্য
পানিতে ডুবে থাকতো। জনদাবি ছিল এটি পরিস্কারের। সেসময়
জনপ্রতিনিধি থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বর্তমান পৌর
প্রশাসক জন দাবি বাস্তবায়নে ওই ড্রেন সংস্কারের কাজ শুরু করিয়েছেন।
এছাড়া শহরের অভ্যন্তরে বড় বড় ড্রেনগুলোও নিয়মিত পরিস্কার করা হচ্ছে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় মশক নিধনে ওষুধ
স্প্রে করা হচ্ছে নিয়মিত। পৌরসভায় নাগরিক সেবা বৃদ্ধিতে

নিরলসভাবে কাজ করছে তারা। বিশেষ করে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমও অত্যন্ত
স্বচ্ছতার সাথে করা হচ্ছে। আগের চাইতে নাগরিক সেবার মানও বৃদ্ধি
পেয়েছে বলে জানান তারা।
সুত্র জানায়, শহরের প্রধান সমস্যা যানজট। তাই পৌর প্রশাসক এসব
সমস্যা সমাধানে বেশী প্রাধান্য দিয়েছেন। ফলে শহরের চারটি পয়েন্টে
লোহার ব্যারিয়ার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ট্রাফিক বিভাগ,
উপজেলা প্রশাসন, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সুধিজনদের সাথে বৈঠকও
করেছেন। ওই বৈঠকে বিভিন্ন সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
সৈয়দপুর পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল খালেক ও উপ সহকারি
প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, জনদূর্ভোগ কমাতে শহরের প্রধান
দুটি সড়কে শুরু হওয়া সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ কাজ দ্রুতসময়ে সম্পন্ন
করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এজন্য পৌর প্রশাসক সার্বক্ষণিক
তদারকি করছেন।
এছাড়া হাতিখানা ক্যাম্পসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট
নির্মাণ ও সংযোগ ড্রেনও স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে তারা বলেন,
বিমানবন্দরে যাত্রী ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ওয়াইফাই সংযোগের
জন্য রাস্তা কেটে ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে উপজেলা
পরিষদের রাস্তা হয়ে পার্বতীপুর রোড মোড় পর্যন্ত সড়কটির সংস্কার কাজ
চলছে। সবমিলিয়ে পৌর প্রশাসকের নির্দেশে সৈয়দপুর পৌর এলাকায়
ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।
যানজট নিরসনে পৌর প্রশাসকের আহবানে বৈঠকে অংশ নেওয়া সৈয়দপুর
ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, সকলের সমন্বয়ে
শহরের যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে। এজন্য ব্যবসায়ী,
যানবাহন চালক ও পথচারীদের সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, পৌরসভা এ
বিষয়ে সহযোগিতা চাইলে তাদের সংগঠন সবসময় পাশে থাকবে।
সুধিজন আশরাফুল আলম বলেন, যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু
মাইক প্রচার করলেই হবেনা। প্রয়োজনে পৌরসভা, থানা পুলিশ, ট্রাফিক
বিভাগ ও ব্যবসায়ী সংগঠনকে নিয়ে একসাথে অভিযান পরিচালনা করতে
হবে।
এ বিষয়ে কথা হয় ট্রাফিক বিভাগের শহর ও যানবাহন পরিদর্শক মাহফুজুল
আলমের সাথে। তিনি বলেন, শহরের যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা
নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু জনবল কম থাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে
হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তিনি পৌরসভার সহযোগিতার কথা উল্লেখ
করে বলেন, পৌরসভার স্থাপন করা সড়ক ব্যারিয়ার রক্ষণাবেক্ষণে তাদের নজরদারি
রয়েছে। শহরে অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে নিয়মের মধ্যে
আনতে কাজও করছেন তারা।
কথা হয় সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারাহ
ফাতেহা তাকমিলার সাথে। তিনি বলেন, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পৌরসভায় আসা নাগরিকদের সেবা বৃদ্ধি করা
হয়েছে। এছাড়া পৌর এলাকার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে নেওয়া
নানামুখী পদক্ষেপ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ করে শহরের
যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের ৪্িধসঢ়;ট পয়েন্টে লোহার
ব্যারিয়ার স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু যানবাহন চালকরা নিয়ম না মেনে

ওইসব ব্যারিয়ার ভেঙ্গে শহরের ভিতর প্রবেশ করে। তারপরও পুনরায় নতুন করে
লোহার ব্যারিয়ার স্থাপন করা হচ্ছে। বিষয়টি দেখতে ট্রাফিক বিভাগকে
বলা হয়েছে। যাতে দিনের বেলা কোন ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে না পারে।
এছাড়া শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে
তুলতে কাজ করা হচ্ছে। তবে এসব বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা
চেয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here