ঘাতক জাকির শুধু একজন খু*নিই নয়, বরং চরম বিকৃত যৌ.ন মানসিকতার এক নরপশু। আর এই পুরো লোমহর্ষক পাপের সহযোগী ছিলেন খোদ তার নিজের স্ত্রী স্বপ্না! পুলিশের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্নার দেওয়া জবানবন্দি এখন পুরো দেশের মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী ফুটফুটে শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হ*ত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে গতকালই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিন্তু গ্রেপ্তারের পর এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটকের পর পুলিশের তদন্তে যে অন্ধকার সত্য বেরিয়ে এসেছে, তা সভ্য সমাজের যেকোনো মানুষকে অপরাধীদের প্রতি তীব্র ঘৃণায় ক্ষুব্ধ করে তুলবে। ভেতরে যখন চলছিল নির্মমতা, বাইরে তখন মায়ের আকুতি: তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার মা তাকে খুঁজছিলেন। ফ্ল্যাটের বাইরে এসে তিনি দেখতে পান, ঠিক বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার জুতো জোড়া পড়ে আছে। মায়ের মন কু ডেকে উঠতেই তিনি ওই ফ্ল্যাটের দরজায় অনবরত কড়া নাড়তে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। পুলিশের দাবি, রামিসার মা যখন বাইরে দাঁড়িয়ে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ভেতরের কক্ষে নিষ্পাপ শিশুটির ওপর চলছিল পৈশাচিক নির্যাতন ও হ*ত্যাকাণ্ড! আর পাশেই দাঁড়িয়ে সব দেখছিলেন জাকিরের স্ত্রী স্বপ্না। ঘাতক স্বামী জাকির যাতে নির্বিঘ্নে শিশুটিকে খু*ন করে শৌচাগারের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে পারে, ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই স্ত্রী স্বপ্না ইচ্ছা করে দীর্ঘ সময় দরজা খোলেননি! স্বামী পুরোপুরি নিরাপদ দূরত্বে চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল তিনি দরজা খোলেন। এই কারণে পুলিশ স্বপ্নাকেও এই হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে। বিকৃত যৌ.নরুচির শিকার নিষ্পাপ রামিসা: মঙ্গলবার রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও স্বপ্নার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশু রামিসা চরম বিকৃত যৌ.ন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। এই পাশবিকতার বিষয়টি যেন জানাজানি না হয়ে যায়, সেই আশঙ্কা থেকেই শিশুটিকে প্রথমে শ্বাসরোধে হ.ত্যা করে ঘাতক জাকির। এরপর আলামত পুরোপুরি ধ্বংস এবং ম.রদেহ গু.ম করার উদ্দেশ্যে ধারালো অ*স্ত্র দিয়ে রামিসার মাথা ও হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। তবে ধর্ষণের চূড়ান্ত বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর একশত ভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে। কে এই ঘাতক জাকির? অনুসন্ধানে জানা গেছে, পেশায় রিকশা মেকানিক এই জাকির দীর্ঘদিন ধরেই চরম বিকৃত মানসিকতার অধিকারী। তার স্ত্রী স্বপ্না পুলিশকে জানিয়েছেন, জাকির বিভিন্ন সময় তার ওপরেও অমানুষিক শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালাত। শুধু তাই নয়, এই ঘাতকের অতীতও অপরাধে মোড়ানো। তার বিরুদ্ধে নাটোর জেলায় অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনে’ একটি পুরোনো মামলাও রয়েছে। মাত্র দুই মাস আগে এই দম্পতি পল্লবীর এই ফ্ল্যাটে ভাড়া এসেছিল, যেখানে রামিসার পরিবার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে বাস করছে। বিকাশের দোকানে মিলল শেষ ক্লু: হ*ত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তথ্যপ্রযুক্তির চৌকস ব্যবহারের কাছে হেরে যায় খুনি জাকির। পুলিশ জানতে পারে, সে পালিয়ে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় অবস্থান করছে এবং সেখানখার একটি বিকাশের দোকান থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করছে। ব্যস! স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় ক্ষিপ্র গতিতে অভিযান চালিয়ে টাকা তোলার মুহূর্তেই তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে পুলিশ। নিজের বাড়ির ঠিক বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটেই যদি এমন বিকৃত কামুক ও খুনি সমাজ ওত পেতে থাকে, তবে আমাদের ছোট ছোট সন্তানরা কোথায় নিরাপদ থাকবে? এই মানুষরূপী পিশাচ জাকির এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্নার কি প্রকাশ্য দিবালোকে দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি হওয়া উচিত নয়? নিষ্পাপ রামিসার আত্মার শান্তির জন্য সবাই প্রার্থনা করুন এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি শেয়ার করে পুরো দেশে প্রতিবাদের ঝড় তুলুন। আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানান।

