পশ্চিমবঙ্গে বুলডোজার রাজনীতি চলবে না: মমতা

Date:

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকারের ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া ব্যাপক ‘অবৈধ দখলদারিত্ব বিরোধী’ উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর নিন্দা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

রোববার (১৭ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি সরকারের ‘বুলডোজার রাজনীতি’র বিরুদ্ধে সুর চড়ান। 

তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, সংস্কৃতি, সহানুভূতি এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ওপর গড়ে ওঠা একটি ঐতিহ্যবাহী রাজ্যে বুলডোজার শাসনের ভাষা হতে পারে না। সাধারণ নাগরিকদের ওপর উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে, ভয় দেখিয়ে কিংবা জোর খাটিয়ে রবীন্দ্রনাথ ও নেতাজির এই মহান ভূমিকে কোনোভাবেই শাসন করা যাবে না।

তৃণমূল সভানেত্রীর এই ঝাঁঝালো বিবৃতিটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কলকাতার পার্ক সার্কাস ও তিলজলা এলাকায় রেলওয়ে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি হাওড়া স্টেশনের চারপাশেও ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাগুলোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আজ আমরা যা দেখছি তা হলো সরাসরি বাংলার মানুষের আত্মমর্যাদার ওপর এক বড় আঘাত। দিনমজুর, হকার, ছোট দোকানদার এবং সংগ্রামী পরিবারগুলো যারা দিনরাত কষ্ট করে ইট দিয়ে ইট গেঁথে নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছিল, তারা আজ এই নতুন সরকারের কারণে নির্মমভাবে আক্রান্ত।

বিজেপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও লেখেন, হাওড়া স্টেশনের চারপাশের উচ্ছেদ এবং পার্ক সার্কাসের রাস্তায় ফুঁসে ওঠা গণঅশান্তি ও মানুষের ক্রমবর্ধমান হাহাকার প্রমাণ করে যে, এই নতুন সরকার মানবতার চেয়ে নিজেদের প্রচারের বিষয়ে বেশি মগ্ন। যে সরকার কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়া আগে উচ্ছেদ করে এবং পরে ভুক্তভোগী মানুষের কথা শোনে, তারা আসলে বাংলার মূল চেতনাকেই পুরোপুরি ভুলে গেছে।

তিনি মনে করিয়ে দেন, একটি রাজ্য তার সবচেয়ে দুর্বল ও অসহায় নাগরিকদের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে, তা দিয়েই প্রকৃত অগ্রগতি পরিমাপ করা হয়; তাদের কত দ্রুত উচ্ছেদ করে মুছে ফেলা যাচ্ছে, তা দিয়ে নয়। রাজনৈতিক অহংকারের চড়া মূল্য আজ বাংলার গরিব মানুষকে নিজের জীবিকা হারিয়ে চোকাতে হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র নবান্নের অধীনে থাকা স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন মমতার এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই উচ্ছেদ অভিযানগুলোর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই; এগুলো কেবলই আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে পরিচালিত ‘নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান’। 

উল্লেখ্য, গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২০৭টি আসন) নিয়ে নতুন সরকার গঠন করে বিজেপি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা নাটকীয়ভাবে নেমে আসে মাত্র ৮০-তে। নতুন এই বিজেপি সরকার গঠনের দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযানের কারণে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষ তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং একমাত্র জীবিকা হারিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

বর্তমানে জনপ্রিয়

More like this
Related

সিংগাইর উপজেলায় সাভার সেনানিবাসের গ্রীষ্মকালীন মহড়ার জন্য অস্থায়ী সেনাবাহিনীর ক্যাম্প পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর।

মো:রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ (সিঙ্গাইর) মানিকগঞ্জ :মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার...

ক্যান্সারে আক্রান্ত ছোট ছেলে, জুলাই শহীদের মাকে চাকরির আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ...

গণতন্ত্রসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত...

সংসদে কথা বলতে দেয় না, জনসভায় কথা বললে বোমা-ককটেল নিক্ষেপ করে

দেশে পুনরায় একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ...