সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রোলের আগুনে ঝলসে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা রেকর্ড (নথিভূক্ত) করার দাবিতে লাশ নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ এবং সড়কে অবরোধ করেছে মৃতের পরিবার ও এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার (৮ জুন) সৈয়দপুর শহরের সেরে বাংলা সড়কস্থ থানার প্রধান ফটকের সামনে ওই বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধ করা হয়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে থানা পুলিশ মামলা নথিভূক্ত করলে হলে বিক্ষুদ্ধরা সড়কের অবরোধ তুলে নেন।
গতকাল সোমবার সৈয়দপুর থানায় দায়েরকৃত মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারিপাড়ার আফাজ উদ্দিন (৬২)। প্রতিবেশির জমিতে লাগানো গাছের পাতা আফাজ উদ্দিনের জমির ওপর পড়লে এতে প্রতিবাদ করেন তিনি। পরে এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের তুমুল মধ্যে বাগবিতন্ডা ও ঝগড়া বিবাদ হয়। এ ঘটনায় বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে গত ৩ জুন প্রতিপক্ষ ১১ জনের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা গত ৩ জুন ভোর আনুমানিক চারটার দিকে আফাজ উদ্দিনের শয়ন কক্ষে পেট্টোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে পেট্টোলের আগুনে বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিনে শরীর ঝলসে যায়। এ ঘটনার পর লোকজন আফাজ উদ্দিনকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থান্তান্তর করা হয়। সেখানেও তাঁর অবস্থার উন্নতি না ঘটলে তাঁকে ঢাকার বার্ণ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৪ টায় মারা যান তিনি (আফাজ উদ্দিন)।
কিন্তু ঘটনার গত তিন দিনেও সৈয়দপুর থানা পুলিশ আফাজ উদ্দিনের ছেলে দেওয়া অভিযোগ আমলে না নেওয়ার অভিযোগে মৃত. আফাজ উদ্দিনের পরিবারের সদস্যসহ এলাকার লোকজন বিক্ষুদ্ধ হয়ে পড়েন। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে তাঁরা উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারিপাড়া থেকে আফাজ উদ্দিনের লাশ বহন করা এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে থানার প্রধান ফটকের সামনে নিয়ে আসে। এসময় লোকজন সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে। বিক্ষুদ্ধ লোকজনের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভে ওই সড়কে প্রায় দেড়ঘন্টা সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তারা মামলা রেকর্ড না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান ত্যাগ করবে না বলে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। পরে ঘন্টাখানেকের মধ্যে মামলা রেকর্ড (নথিভুক্ত) হলে ওই সড়কের অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। ওই মামলায় মৃত. আফাজ উদ্দিনের ছেলে মো. নুর হোসেন বাদি হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১,তারিখ: ০৮/০৬/২০২৬ইং।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন, মৃতের পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য ঢাকা ব্যস্ত থাকায় এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ নেওয়া যায়নি। রবিবার বিকেলে মৃত. আফাজ উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ নিলে এলেও তা ক্রটি থাকায় সংশোধন করতে বলা হয়। আজ সকালে তাদের অভিযোগ নিয়ে থানায় আসতে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তারা সেটি না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আজকের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমরা অভিযোগ পেয়ে মামলা নথিভূক্ত করলাম। এখন তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

