নির্বাচনে জামায়াতের জয়ের হাইপ তোলা হয়েছিল, কিন্তু মানুষ ভুল করেনি: মির্জা ফখরুল

Date:

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সবখানে জামায়াতের জয়ের হাইপ বা জোয়ার তোলা হয়েছিল। আমাকেও হারিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু মানুষ ভুল করেনি। বিএনপিকে বেছে নিয়েছে, বিএনপি উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পিআইবি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে একটি দলকে সবাই ভোট দিয়েছিল, সেটা ওই দলের জন্য নয়, মানুষের আকাঙ্ক্ষার জন্য। মানুষ তখন পাকিস্তান থেকে বের হয়ে আসতে চেয়েছিল। যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সবচেয়ে বড় যে কাজটি করেছিলেন, তা হলো বাংলাদেশের এ ভূখণ্ডের মানুষকে একটি পরিচিতি দিয়েছিলেন। আমরা আলাদা, আমাদের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেটা আমরা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের মধ্যে দেখি।

তিনি বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। একটি সম্পূরক হিসেবে। খুব কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধকে দেখেছি, ভয়াবহতা দেখেছি, দেখেছি কীভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে, কীভাবে মানুষকে হত্যা করেছে, কীভাবে নারীদের নির্যাতন করেছে। এটা খুব কাছ থেকে দেখা। সে কারণেই সে সময় এমন ঘটনাকে ক্ষমা করতে পারিনি। যে কারণে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনো যুদ্ধকে মিলানো যায় না। সে কারণেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমার কাছে একজন অনন্য পুরুষ, ক্ষণজন্মা পুরুষ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছিলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এবার আমাদের নির্বাচনে বিভিন্ন মিডিয়ায় একটি হাইপ তোলা হয়েছিল যে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় চলে যাচ্ছে। তারা সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করছে। আমাকেও পরাজিত করে দেওয়া হয়েছিল। অথচ মানুষ কিন্তু ভুল করেনি। সবাই তাদের ভোটে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে। কিন্তু কেন? কারণ বিএনপি একটি প্রধান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করে। বিএনপি একটি উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা এ উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না। বাংলাদেশ যে কারণে সৃষ্টি হয়েছে, সে কারণেই আমরা জোর দিয়ে এ দেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, এ জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি স্লোগান দিয়েছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ।’ এতে কোনো ঝামেলা নেই। আমাদের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে গানটি বলে গিয়েছিলেন, ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ’— ঠিক সেভাবেই এ স্লোগানটি এসেছে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের মূল ঘোষণা ছিল দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সবাইকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। আমার কাছে মনে হয়, তার রাজনীতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এটাই ছিল। বাংলাদেশকে কারও চোখে শত্রু বানাতে চাননি। কাউকে মিত্রে পরিণত করতে চাননি। এটা করতে গিয়ে তিনি অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। বাংলাদেশকে সবার চোখে একটি ভালো দেশ হিসেবে এগিয়ে নিতে পেরেছেন। মূল কথা হলো, মানুষ বাংলাদেশকে কীভাবে দেখতে চায়। ‘সমস্ত প্রভাবের বাইরে, সমস্ত আধিপত্যের বাইরে দেশকে দেখতে চায়।’

এ সময় তিনি ক্রিকেট খেলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, আপনারা বাংলাদেশ-পাকিস্তান খেলার সময় দেখবেন, ক্রিকেটে বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশের পক্ষেই চিৎকার করে। আবার ভারতের সঙ্গে খেলা হলে বাংলাদেশের মানুষ দেশের হয়েই চিৎকার করে। কারণ, এ দুই দেশের খেলার মধ্যে আমরা দেশকে ভালোবেসে দেশের পক্ষে দাঁড়াতে চাই। আমরা আমাদের মতো করে দাঁড়াতে চাই।

মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের যে পথ দেখিয়েছিলেন, তা আমাদের আসল পথ। আমি দেখেছি শহীদ জিয়াউর রহমানের জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হয়েছিল। সেখানে নামাজ পড়ানো শেষে ইমাম সাহেব যখন মোনাজাত করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আল্লাহ, তুমি বাংলাদেশকে হেফাজত করো।’ সে সময় মানুষ আমিন বলে ঢুকরে ঢুকরে কেঁদে উঠেছিল। যা পুরো জানাজার পরিবেশ পাল্টে দিয়েছিল।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ভারত-চীন থেকে আমদানি করা যাবে না, আমেরিকায় রফতানি করা যাবে না— এমন ভাবনা করলে আমাদের সরকারকে চিন্তিত হতে হবে। এসব বিষয় আমরা একত্রে মোকাবিলা করতে বাধ্য। সম্ভবত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের আগের বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, কূটনীতি, অর্থনীতি এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থার কাঠামো থেকে বের হয়ে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্যতা, মুসলিম বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং সর্বশেষ বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতকে সঙ্গে নিয়ে সার্ক গঠন করেছিলেন। দ্বিপক্ষীয় সমস্যাকে আঞ্চলিক বহুমাত্রিক সমস্যার মধ্যে রূপান্তরিত করেছিলেন। এ সব কিছুর নায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বৃহৎ যে কাজটি তিনি করেছেন, তা হলো প্রতিবেশী দেশকে কীভাবে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে এসে কাজ করতে হয়, তা তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন। ১৯৪৭ সালে সংসদে যদি ভারতের প্রধান ভাষা হিসেবে উর্দু ভোটে জিতে যেত, তাহলে ভারতের প্রধান ভাষা উর্দু হয়ে যেত। তখন ইতিহাস ভিন্ন রকম হতো।

‎আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পিস এন্ড সিকিউরিটি স্ট্যাডিজ এর সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এএনএম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নাল এর সম্পাদক আবু রূশদ ও ব্রেইন এর নির্বাহী পরিচালক ড. শফিকুর রহমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

বর্তমানে জনপ্রিয়

More like this
Related

দেশে প্রথমবারের মতো ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে সরকার: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

দেশে প্রথমবারের মতো মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল বা ‘ফ্রি ট্রেড...

ভয়াবহ ফাউল করেও ছাড় পেলেন মেসি, নেট দুনিয়ায় তুমুল ঝড়

২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়ার ম্যাচেও লিওনেল...

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে জ্বালানি ও ইভি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন...

এমপিও বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের তালিকা প্রকাশ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য শূন্যপদের ভুল তথ্য জমা...