রূপগঞ্জে কোরবানির পশুর ব্যাপক প্রস্তুতি:গো-খাদ্যের দামে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

0
16

​মোঃ আলম হোসাইন
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ-
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার খামারগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। দিনরাত পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। গত বছর ভারতীয় গরু না আসায় স্থানীয় খামারিরা ভালো মুনাফা পেয়েছিলেন, সেই অনুপ্রেরণায় এবার রূপগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে গবাদি পশু পালন কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে পশুর উৎপাদন ভালো হলেও গো-খাদ্যের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে খামারিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

​রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৮০০টি খামার রয়েছে। নিচু ও সমতল ভূমি হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক ঘাসের প্রাচুর্য রয়েছে, যা পশু পালনে সহায়ক। খামারিরা ঘাসের পাশাপাশি খৈল, গমের ভূষি ও ধানের কুঁড়া খাইয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করছেন।
​উপজেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১৭ হাজারেরও অধিক। বিপরীতে খামারিদের কাছে প্রস্তুত রয়েছে পর্যাপ্ত পশু। ষাঁড় প্রায় ৮ হাজারেরও অধিক বলদ রয়েছে ২,৪ ৪৫টি, গাভী ২,২৪৫টি এবং ছাগল ও ভেড়া: ১৮,৪৯৫টি।

​খামারিদের প্রধান দাবি দেশের বাজার রক্ষায় সীমান্ত দিয়ে যেন কোনোভাবেই ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়। রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার হাটাবো এলাকার প্রবিন খামারি মোঃ মকবুল হোসেন জানান, “আমরা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে পশু তৈরি করেছি। কিন্তু গো-খাদ্যের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে খরচ অনেক বেশি পড়ে গেছে। যদি বাইরের গরু না আসে, তবেই আমরা ন্যায্য মূল্য পাব এবং গত বছরের মতো লাভ করতে পারব।”

​এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সজল কুমার দাশ বলেন,
​”রূপগঞ্জে এবার চাহিদার তুলনায় পশুর জোগান অনেক বেশি। আমরা খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছি যাতে তারা সম্পূর্ণ ক্ষতিকর হরমোনমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু উৎপাদন করতে পারেন। গো-খাদ্যের দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও স্থানীয় ঘাস ব্যবহারের কারণে খরচ সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, খামারিরা তাদের পশুর সঠিক দাম পাবেন এবং রূপগঞ্জ উপজেলার চাহিদা মিটিয়েও বিপুল পরিমাণ পশু অন্যত্র সরবরাহ করা সম্ভব হবে।”

​সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে পশু আসা বন্ধ থাকলে এবং হাটগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে এবার রূপগঞ্জের পশুর হাটগুলো দেশি গরুর দখলে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন শুধু অপেক্ষা ক্রেতাদের ভিড় আর কাঙ্ক্ষিত লাভের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here