কালীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে মাত্র একজন নৈশ প্রহরী থাকায় হুমকির মুখে নিরাপত্তা

Date:

হুমায়ুন কবির কালীগঞ্জ,ঝিনাইদহ :

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একমাত্র সরকারি হাসপাতালটির নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন শাহিনুর হোসেন নামের একজন নৈশ প্রহরী। একই পদে আরও ২ জন থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে মেহেদী হাসান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে এবং অপরজন আবুল বাশার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে দিনে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা যায়। সরকারি এ হাসপাতালের তিনজন নৈশ প্রহরীই মাস্টার রুল বা (আউটসোর্সিং)হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। শাহিনুর হোসেন একা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালন করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে তাকে দেওয়া হয়নি কোনো পোশাক বা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সামগ্রী। হাসপাতালটির রাতের বেলা এবং রোগীদের নিরাপত্তা, মূল্যবান সরঞ্জামাদীর সুরক্ষা মাত্র একজন নৈশ প্রহরীর উপরে থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে নেয় কোনো দায়িত্বশীল ভূমিকা। এই হাসপাতাল এলাকার মধ্যে সর্বমোট নয়টি ভবন রয়েছে। এই ভবনগুলোর সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দিতে একজন নৈশ প্রহরীর পক্ষে সম্ভব নয়। রাতে হাসপাতালে ভেতরে এবং বাইরে নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক ব্যক্তির কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ, হাসপাতালের প্রধান ফটক, জরুরী বিভাগ এবং অন্যান্য প্রবেশ পথগুলো তালাবদ্ধ বা সুরক্ষিত আছে কিনা তা নিশ্চিত করে বহিরাগতদের প্রবেশ রোধ করা, আগুন লাগা, চুরি বা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেসব দিকে লক্ষ রাখা এমনকি হাসপাতালের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও ঔষধ এবং জরুরী নথিপত্রের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ অরক্ষিত হচ্ছে কেবলমাত্র একজন নৈশ প্রহরীর কারণে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা আমেনা খাতুন নামের এক রোগীর স্বজন জানান, নিরাপত্তার অভাবে প্রায়ই হাসপাতালে ছোটখাটো চুরির ঘটনা শোনা যায়।রোগী বা তার স্বজনদের নিকট থাকা মোবাইল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এমনকি বাইসাইকেল, মোটরসাইকেলও একটু বেখেয়ালে চুরি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে একজন নৈশ প্রহরী দিয়ে কি চলে? যেকোনো সময় বড় ধরনের চুরি বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য আমি মনে করি, আরো কয়েকজন নৈশ প্রহরী থাকলে হাসপাতালে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা নৈশ প্রহরী শাহিনুর হোসেন বলেন,দীর্ঘদিন ধরে একাই দায়িত্ব পালন করছি। এভাবে দায়িত্ব পালন করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। একা একা সবদিক সামাল দেওয়া যায় না। কোন দিক দিয়ে কোনো কিছু ঘটে গেলে আমার পক্ষে জবাবদিহিতা করা অনেক কঠিন। এ কারণে দ্রুত নৈশ প্রহরীর সংখ্যা বাড়ালে দায়িত্ব পালন করা সহজ হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার অরুণ কুমার দাস বলেন, একজন নৈশ প্রহরী দ্বারা হাসপাতালের নিরাপত্তা ঠিক রাখা আসলেই কঠিন ব্যাপার। বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। আশা করছি দ্রুতই সমাধান মিলবে।

হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় নৈশ প্রহরী না থাকার ব্যাপারে ঝিনাইদহ ৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, নৈশ প্রহরী সংকটের বিষয়টি আমি অবগত। ইতিমধ্যে সিভিল সার্জন এর সাথে এব্যাপারে আমি কথা বলেছি। তিনি আমাকে অচিরেই সমস্যা সমাধানে আস্বাস দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

বর্তমানে জনপ্রিয়

More like this
Related

জীবন কোনোদিনই সরল ছিল না: জয়া

পর্দায় জয়া আহসানের উপস্থিতি মানেই এক নতুন চরিত্র, ভিন্ন...

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: মৃতের সংখ্যা বেড়ে একলাফে ৫৮৯

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দু’টি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে...

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে ‘দুলাভাই বাহিনীর’ গোলাগুলি, নিহত ১

খুলনা অফিস :- সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনীর’ সদস্যদের...

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ‘নির্ধারিত রুট’ অনুসরণের নির্দেশ ইরানের

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা জারি...