-ফাইয়াজ এইচ রাতিন (ফ্যাশন এন্ড ফিটনেস ক্রিয়েটর)
আজকের দিনে ফিট থাকা মানে শুধু জিম বা ডায়েট করা নয়, আর ফ্যাশন মানেও শুধু জমকালো পোশাক পরা নয়। ২০২৬ সালের ট্রেন্ড বলছে, এই দুটি এখন একে অপরের পরিপূরক। আপনি কতটা সুস্থ এবং নিজের প্রতি কতটা যত্নশীল—সেটাই ফুটে ওঠে আপনার পোশাকে, আপনার স্টাইলে।
যখন আপনার বডি ফিট থাকে, যেকোনো পোশাকই আপনার ওপর দারুণ দেখায়। আবার যখন আপনি সঠিক ও ট্রেন্ডি ফিটনেস গিয়ার বেছে নেন, তখন জিম বা ওয়ার্কআউটের প্রতি মোটিভেশনও বেড়ে যায় বহুগুণ। চলুন দেখে নেওয়া যাক কীভাবে ফ্যাশন আর ফিটনেসকে মিলিয়ে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন একজন ‘পশ’ বা এলিগ্যান্ট আইকন।
১. ‘অ্যাথলিজার’ ট্রেন্ড: আরাম আর আভিজাত্যের মেলবন্ধন
অ্যাথলেটিক (Athletic) এবং লেজার (Leisure)—এই দুটি শব্দ মিলে তৈরি হয়েছে অ্যাথলিজার (Athleisure)। অর্থাৎ, যে পোশাক পরে আপনি ওয়ার্কআউট করতে পারবেন, আবার সেটা পরেই বন্ধুদের সাথে কফি আড্ডায় বা শপিংয়েও চলে যেতে পারবেন।
স্টাইল গাইড: হাই-ওয়েস্টেড প্রিমিয়াম লেগিংসের সাথে একটি ওভারসাইজড ক্রপ হূডি বা ব্লেজার পেয়ার করুন।
ফুটওয়্যার: পায়ে থাকুক একজোড়া মিনিমালিস্ট সাদা স্নিকার্স।
অ্যাক্সেসরিজ: চোখে একটি ক্লাসিক সানগ্লাস আর হাতে একটি পশ স্মার্টওয়াচ। ব্যাস, আপনি তৈরি নিমিষেই!
২. কালার প্যালেট ও ফেব্রিক সিলেকশন
পশ লুকের মূল মন্ত্রই হলো ‘মিনিমালিজম’ বা সিম্পলিসিটি। অতিরিক্ত চটকদার রঙ এড়িয়ে বেছে নিন নিউট্রাল এবং আর্থি টোন।
রঙ: ব্ল্যাক, অলিভ গ্রিন, নেভি ব্লু, বেইজ, চকোলেট ব্রাউন বা ক্লাসিক হোয়াইট। এই রঙগুলো আপনার ফিটনেস লুকে এক ধরণের আভিজাত্য এনে দেয়।
ফেব্রিক: সস্তা পলিয়েস্টার বাদ দিয়ে বেছে নিন ‘ময়েশ্চার-উইকিং’ (Moisture-wicking) এবং ব্রিদেবল লাক্সারি ফেব্রিক, যা আপনার শরীরের ঘাম শুষে নেবে কিন্তু কাপড়ের লাবণ্য নষ্ট করবে না।
৩. ফিটনেস যখন ফ্যাশনের ক্যানভাস
একটি সুগঠিত ও টোন্ড বডি হলো সেরা ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। নিয়মিত যোগব্যায়াম, কার্ডিও বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং আপনার পোস্টার (Posture) বা দাঁড়ানোর ভঙ্গি উন্নত করে। যখন আপনার পিঠ সোজা থাকবে, কাঁধ চওড়া দেখাবে, তখন সাধারণ একটি লিনেন শার্ট বা সুতির শাড়িও আপনার শরীরে রাজকীয় দেখাবে।
পশ টিপ: ফ্যাশন বাইরের জৌলুস বাড়ায়, আর ফিটনেস বাড়ায় ভেতরের আত্মবিশ্বাস। যখন এই দুইয়ের মিলন ঘটে, তখন যেকোনো ভিড়েও আপনি আলাদা হয়ে উঠবেন।


