এয়ারপোর্টের অকশনের নামে ৩১ লাখ টাকার প্রতারণা: সিআইডির জালে চক্রের মূলহোতা

0
3

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকাগ্রাফ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অকশন ডিপার্টমেন্টের অপারেশন ম্যানেজার পরিচয়ে স্বল্পমূল্যে আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপসহ মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো. ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার (২৮)কে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযানে তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন ও সাতটি সিম জব্দ করা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি বিশেষ দল গত সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। তিনি এর আগেও একটি ডিজিটাল প্রতারণা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, একটি বেসরকারি জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে প্রতারক চক্রটি প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে। নিজেদের বিমানবন্দরের অকশন বিভাগের কর্মকর্তা ও অপারেশন ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে তারা ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে। পরে জানানো হয়, বিমানবন্দরের অকশনে জব্দকৃত বা অব্যবহৃত আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি করা হবে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা জীবনবীমা করার আগ্রহী বলে দাবি করে একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা হয়।

প্রতারকরা নিজেদের বৈধতা প্রমাণে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল অনুমোদনপত্র, কথিত সরকারি নথি, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের ভুয়া কাগজপত্র এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের নকল কপি ভুক্তভোগীর কাছে পাঠায়। এসব নথি দেখে আশ্বস্ত হয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায় বিনিয়োগে সম্মত হন।

এরপর ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল ও ৫৪৩টি ল্যাপটপ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে দুটি ব্যাংক হিসাব ও তিনটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা গ্রহণ করে চক্রটি। টাকা পাওয়ার পর তারা পণ্য সরবরাহ না করে নানা অজুহাত দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য এবং ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তে অভিযুক্ত রবিন শিকদারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়।

সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করত। পরে বিমানবন্দরের অকশনে কম দামে মূল্যবান পণ্য বিক্রির লোভ দেখিয়ে ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত। তদন্তে তাদের ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এবং প্রতারণার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জনগণকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রির প্রস্তাব, অনলাইনে পাওয়া কথিত সরকারি অনুমোদনপত্র কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির ব্যবসায়িক প্রস্তাবে বিশ্বাস করে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা উচিত নয়। যেকোনো বিনিয়োগ বা পণ্য ক্রয়ের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই এবং সন্দেহজনক ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here