বাবার অপমানের প্রতিশোধ নিতে ৫ বছরের শিশুকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন ১৯ বছরের তরুণী

0
4

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছরের শিশু জায়হানকে ঘরে ডেকে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আসামি সাদিয়া সুলতানা নিহা (১৯) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা মূল কারণ ও নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। নিহা জানান, তার বাবাকে শিশু জায়হানের বাবা অপমান করেছিলেন। সেই ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন থেকেই তিনি এই অবুঝ শিশুকে হত্যা করার চরম সিদ্ধান্ত নেন।

তিন দিনের পুলিশি রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাখাওয়াত হোসেনের আদালতে হাজির করা হলে নিহা এই জবানবন্দি দেন। আদালতে অপরাধের আদ্যোপান্ত স্বীকার করার পর বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত বুধবার এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ফরহাদ আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন। আদালত শুনানি শেষে প্রধান আসামি সাদিয়া সুলতানা নিহার ৩ দিন এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে তার বাবা সাইফুল ইসলাম ও মা শাহনুর আকতারের ১ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

পটিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা জানান, রিমান্ডে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য এবং পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মাধ্যমে শিশু জায়হান হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত রহস্য ও কারণ পুরোপুরি উদঘাটিত হয়েছে। নিহা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তার বাবাকে জায়হানের বাবা অপমান করার কারণে সৃষ্ট তীব্র ক্ষোভ থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন পটিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকায় নির্মমভাবে খুন হয় সাইফুল ইসলামের পাঁচ বছর বয়সী শিশু সন্তান জায়হান। এই অমানবিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ, আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পটিয়া থানা ঘেরাও করে। ঘটনার একদিন পর নিহাসহ তার বাবা-মাকে আসামি করে পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে জায়হানের পরিবার, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here