বন বিভাগের টিপি পাশের নামে চলছে রমরমা চাঁদাবাজি

0
12

কালীগঞ্জ,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: 

ঝিনাইদহ বন বিভাগে ট্রান্সপোর্ট পারমিশন (টিপি) বা বনজ দ্রব্য হস্তান্তরের পাশের  নামে চলছে লক্ষ লক্ষ টাকার রমরমা বাণিজ্য। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই পাস গ্রাহকদের বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে গুরুতর  অভিযোগ উঠেছে। পাস প্রদান করে  চাঁদাবাজি করার নেপথ্যে জেলার এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করছেন ফরেস্ট গার্ড দিপু বিশ্বাস এবং ফরেস্টার জাকির হোসেন। সরাসরি মাঠপর্যায়ে তারাই এই অর্থ আদায়ের মূল হোতা হিসেবে কাজ করছেন। বনজ দ্রব্য পরিবহনের জন্য পাস দেওয়ার নামে তারা প্রতিটি গাড়ি থেকে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন। নিজেরা পাস বিক্রি করছেন, আবার অনেক সময় নির্দিষ্ট কাঠ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে টিপি পাসের চাঁদাবাজির টাকা পকেটস্থ করছেন। 

স্থানীয় সূত্র ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, ঝিনাইদহ জেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০টি বনজ দ্রব্যবাহী(কাঠ) গাড়ি চলাচল করে। প্রতিটি গাড়ি থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে এই টাকা আদায় করে জাকির দিপু সিন্ডিকেট।  মাস শেষে যার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে কয়েক লক্ষাধিক টাকায়। টিপি কাগজে বিভাগীয় বনকর্মকর্তার পক্ষে স্বাক্ষর করে থাকেন ঝিনাইদহ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার জাকির হোসেন। যার প্রতিটি মুড়ি বইতে নাম তারিখের জায়গা ফাকা রেখে একাধিক স্বাক্ষর করে রাখতেও দেখা যায়।

বন বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে ডেপুটি রেঞ্জারের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও সেই পদ দখল করে আছেন ফরেস্টার জাকির হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) অমিতা মণ্ডলের ছত্রছায়ায় এবং আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজ জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি দখল করে রেখেছেন। ফলে পুরো জেলায় বন বিভাগের কার্যক্রমে স্থবিরতা ও দুর্নীতির ডালপালা বিস্তার লাভ করেছে।

শুধুমাত্র টিপি বা ট্রানজিট পাস বাণিজ্য নয়, জেলার লাইসেন্সবিহীন করাত কল পরিচালনা এবং শত কিলোমিটার সরকারি বনায়ন কর্মসূচী কার্যক্রমে স্বল্প শ্রমিকের মাধ্যমে বৃহৎ অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে । সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান, বন বিভাগের এমন স্বেচ্ছাচারিতার কারণে তারা চরম হয়রানি এবং আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে ফরেস্ট গার্ড দিপু বিশ্বাস বলেন,জাকির স্যার আমাকে যেভাবে বলেন আমি সেভাবে কাজ করি। টিপির টাকার হিসাব সব স্যারই ভালো বলতে পারবেন। আপনারা স্যারের সাথে কথা বলেন।

ঝিনাইদহ জেলা বন বিভাগের চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের প্রধান ফরেস্টার জাকির হোসেন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব নিয়ে লেখা লেখির কি দরকার। আমি আপনি সকলের বাড়ি ঝিনাইদহে। খরচ খরচা লাগলে বলেন। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঝিনাইদহ সহকারি বন সংরক্ষক জুমুয়া জামান বলেন, আমি এই অফিসে নতুন যোগদান করেছি। আপনাদের অভিযোগের বিষয়টি আমার অজানা। বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে আমি কথা বলবো।

এ ব্যাপারে যশোর অঞ্চলের বন সংরক্ষক হারুন অর-রশিদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে অনিয়মের  অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে বিভাগীর বন কর্মকর্তা অমিতা মন্ডল এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অবিলম্বে এই দুর্নীতির তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here