গোটা শহরের ছিল ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থাসৈয়দপুরে শোকাবহ পবিত্র আশুরা পালিত

0
4
filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 40;

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর :

সৈয়দপুরে ১০ মহররমের স্মৃতি বিজড়িত ঘটনাকে স্মরণ করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় পালন করেছে পবিত্র আশুরা। শাহাদায়ে কারবালা প্রান্তরে ঘটে যাওয়া হৃদয় বিদারক হত্যাযজ্ঞ দিনটি আজও ধর্মপ্রাণ মুসলিম জাতির কাছে স্মরণীয় ও শোকাবহ। ইসলাম কায়েম ও শান্তি রক্ষায় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) ও পরিবারসহ অনুসারীরা এই দিনে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হযরত ইমাম হুসাইন ( রাঃ ) ও অন্যান্যদের আত্মত্যাগ যা কালের সাক্ষী হয়ে আজও বহন করে আসছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে। 

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৬ জুন) সৈয়দপুরে স্মরণীয়ভাবে পবিত্র আশুরা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। এসবের মধ্যে অন্যতম ছিল পাইক মিছিল, স্মরণীয় কারবালায় পাইক খোলানো উপলক্ষে নিয়াজ ফাতেহা, শরবত ও তবারক বিতরণ, প্রতিটি ইমামবাড়া ও শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে লাঠি খেলা, ঢোল বাজানো এবং মহররম মেলা। 

সুত্র জানায়, মহররম মাসে চাঁদ দেখার সাথে সাথে সৈয়দপুরে আশুরার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিশেষ করে মহররমের সাত তারিখ থেকে মুল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ওইদিন শহরের ইমামবাড়াগুলোতে গিয়ে দুলদুল ঘোড়ার সাজে সজ্জিত হয় মানতি পাইকেরা। নতুন নতুন পোশাক পরিধান করে নিয়াজ ফাতেহার মাধ্যমে সেখানকার  খলিফাদের (মুরুব্বি) কাছে পাইক বাঁধেন। শিশু থেকে শুরু করে সববয়সী মানুষজন লাল সবুজের বিশেষ দড়ি ও কোমড়ে ছোটবড় ঘন্টা পড়ে দুলদুল ঘোড়ার সাজে পাইক হন তারা। পরে তারা দলবেঁধে প্রতিকী শাহাদায়ে কারবালায় গিয়ে দোয়ায় অংশগ্রহণ শেষে শহরের প্রতিটি পড়া মহল্লায় গড়ে তোলা অর্ধ শতাধিক প্রতিটি ইমামবাড়াতেও যান তারা। এসব চলতে থাকে আশুরার দিন পর্যন্ত। এছাড়া শোকাবহ দিবসটি উপলক্ষে মসজিদ মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ধর্মপ্রাণ মানুষজন রোজা পালনসহ বাসাবাড়িতেও আয়োজন করে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানের। বিকেলে কারবালায় যাওয়া আসা করা মানুষজনকে শরবত খাওয়ানো হয়। তবারক হিসেবে দেওয়া হয় খিচুড়ি, আটার রুটি দিয়ে তৈরি এক ধরণের খাবার মলিদা। এছাড়া গরীর অসহায় মানুষজনকে খাওয়ানো হয় উন্নতমানের খাবার। এদিকে  আশুরা উপলক্ষে প্রতিটি পাড়া মহল্লার ইমামবাড়াগুলো আলোকমালায় সজ্জিত করা হয়। সেখানে সববয়সী নারী-পুরুষের ভীড় দেখা যায়। এদের অনেককেই মান্নত পুরণ করতে মিষ্টি, আটার তৈরী রুটি দিয়ে মলিদা ও শরবত ফাতেহা করতে দেখা গেছে। মহরম কমিটির উদ্যোগে ইমামবাড়াগুলোতে বসানো হয় তাজিয়া। বিভিন্ন নকশা ও কারুকার্য্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় তাজিয়াগুলো। এছাড়া বর্ণাঢ্য তাজিয়া শোভাযাত্রা বের করা হয়। এবারে সৈয়দপুর শহরে অর্ধ শতাধিক ইমামবাড়ায় তাজিয়া বসানো হয়। সেখানে গভীররাত পর্যন্ত চলে ঢোল বাজানো ও নানারকমের খেলা। এছাড়া শহরের বিভিন্ন মোড়ে হয়েছে মহররমের বিভিন্ন খেলা। এদিকে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে যেকোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্মরণীয় শাহাদায়ে কারবালাসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় নয় মহররম থেকে। এছাড়া অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও দেখা গেছে তাদের দায়িত্ব পালনে। অপরদিকে দিবসটিতে শহরের পার্বতীপুর সড়কের শিয়া সম্প্রদায়ের ইমামবাড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সেখানে আশুরার দিন বিকেলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সববয়সী শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন তাদের উত্তরসূরীদের কৃতকর্মের জন্য মহান আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমা চেয়ে বুক চাপড়িয়ে মাতম ও শোকর‍্যালী বের করে। এটি তাদের ইমামবাড়া থেকে বের হয়ে পার্বতীপুর মোড় পর্যন্ত গিয়ে পুণরায় ইমামবাড়ায় গিয়ে শেষ করে। 

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নেয়া পদক্ষেপের বিষয়ে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন, পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেনের নির্দেশনায় ৯ মহররম (২৫ জুন) বিকেল থেকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও ইমামবাড়া ও হাতিখানা কবরস্থানের স্মরণীয় কারবালায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। 

পাশাপাশি সাদা,পোশাকেও পুলিশ সদস্যদেরও নিয়োজিত করা হয়। ফলে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here