সংস্কারের পর দ্রুত খুলে দেওয়া হবে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

0
6

চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সংস্কার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সংলগ্ন জাদুঘরটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’র কারণে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাদুঘরটিকে আগের মর্যাদায় ফিরিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি আধুনিকায়নের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও ব্যবহৃত বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষণ করা হবে। সংস্কারকাজের সুবিধার্থে জাদুঘরের কয়েকটি কক্ষ বর্তমানে খালি রাখা হয়েছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আহমেদ আজম খান বলেন, মেজর জিয়া থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়া—বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার স্মৃতি সংরক্ষণের জন্যই এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সংস্কারকাজের মাধ্যমে তার স্মৃতিচিহ্ন ও ব্যবহৃত সামগ্রী যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং ‘বীর উত্তম’ খেতাব অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি সেনাপ্রধান এবং রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।

দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের গতিপথ পরিবর্তনে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন দাবি করে মন্ত্রী বলেন, পরবর্তী সরকারগুলো তার অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করেছে। জিয়ার স্মৃতি সংরক্ষণে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের পাশে অবস্থিত ‘জিয়া স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অতীতে এর নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে এটিকে পুনরায় ‘জিয়া মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স’ হিসেবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, জাদুঘর ও জিয়া মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের সঠিক ইতিহাস জানা জরুরি। কারণ, ইতিহাস না জেনে একটি জাতি সঠিকভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে না।

জাদুঘরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, ভূমিকম্পের কারণে ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে জাদুঘরটি পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

জাদুঘর পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here