ঢাকা গ্রাফ: বিশ্বে সৃষ্টির সেরা মানুষ। এই মানুষগুলোকে শৃঙ্খলিত করার লক্ষে মানবিক দেশ গড়তে শাসনের জন্য নেতা তৈয়ার করা নেতা হবে নিরাহংকার, নির্লোভ, দেশের নিয়মনীতি ও সংবিধানের জন্য নির্বাচন।
আসুন আমরা বাংলাদেশকে এমন একটি নির্বাচন উপহার দেই যে নির্বাচন দ্বারা বিশ্বের বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটোর দর্শন, যে দর্শন বিশ্বের অধিকাংশ দেশ মেনে চলে ও আগামীদিনে দেশ শাসিত হবে।
বিশ্বকে যেসব আবিস্কারক দ্বারা মানবজাতি আলোকিত হয়েছে তারা হলেন জেমস এডওয়ার্ড যিনি বিদ্যুৎ আবিস্কার করেছে, বেতার আবিস্কার করেছে মারকনি, বিমান আবিস্কার করেছে রাইট ব্রাদারস এই সব আবিস্কারের মাধ্যমে আমরা মানবজাতি আলোকিত হয়েছি ও বিশ্বের সকল জাতি ধর্ম গোত্রের মানবজাতি উপকৃত হয়েছে।
আর বাংলা ভাষাভাষী বাঙালিদের একটি স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির স্বপ্ন দেখেছেন তারা হলেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি মানবতার দিশারী কবি কাজী নজররুল ইসলাম, বাংলার রূপসী কবি জীবনানন্দ দাস, চারণ কবি মুকুন্দু দাস, মানবতার কবি সুকান্ত।
উপমহাদেশকে তথা বাঙালিদের জাগরণ সৃষ্টিকারী শিক্ষার দূত বাঙালিদের জন্য যা কিছু কল্যাণকর তার সবকিছুই করেছে উপমহাদেশের সেরা রাজনীতিবিদ, শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক।
উপরোল্লিখিত দার্শনিকদের দর্শন, আবিস্কারকদের সকল আবিস্কার কবিদের কবিত্বকে ধারণ করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের বর্বর স্বৈরশাসন থেকে বাঙালিদের মুক্তি দিয়েছেন একটি স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যারাই দেশ পরিচালনা করেছে তারা সবাই দার্শনিকদের দর্শন, আবিস্কারকদের আবিস্কার, কবিদের কবিত্ব ও রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ধারণ না করে ঘাতক খন্দকার মোসতাক, জেনারেল জিয়া, জেনারেল এরশাদ, বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা বিশ্বের সকল নিয়মনীতি ও বাংলাদেশের সংবিধান না মেনে দেশ শোষন ও শাসন করেছে সেই কারণে দুর্নীতি করেছে, সাধারণ জনণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।
এই কারণেই ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান হয়েছে আসুন আমরা বাংলাদেশের সকল জনগণ বিশেষভাবে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এক হয়ে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি। ২৪ এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন ধারণ করি, বৈষম্য দূর করি এবং এমন একটি নির্বাচন করি যেখানে কোন প্রকার মানুষ খুন, হানাহানি নিয়মনীতির বাইরে কোন কাজ না হয় তার জন্য নিম্নের কর্মসূচিগুলো পালন করি এবং আমার প্রতিটি জনগণ মানবতাবাদী মানবিক হই অন্যের আদর্শ শুনি ও আপনার আদর্শ তাকে শুনতে দিন, বুঝতে দিন যার মাধ্যমে কোন প্রকার অন্যায় কাজ না হয় যেকাজ গুলো জনগণকে, সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে করতে হবে এবং মেনে চলতে হবে:-
(১) তিনশত নির্বাচনী এলাকায় ৪ দিনে নির্বাচন করতে হবে। প্রতিদিন ৭৫টি নির্বাচনী এলাকায়। (২) ৪ দিনে নির্বাচন হলে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে এমন নিরাপত্তা দিতে হবে কোন প্রকারে ভোট কেন্দ্রে সন্ত্রাসী, মাস্তানদের প্রাধান্য না থাকে। (৩) প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকতে হবে। যাতে প্রতিটি এলাকায় কোনভাবে দুর্নীতির আশ্রয় না নিতে পারে। (৪) প্রতি কেন্দ্রে এমন ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে যাতে কোন একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বা নির্বাচন গ্রহণ কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তা এ নির্বাচনী কেন্দ্রে অন্যায়ের আশ্রয় নিতে না পারে। (৫) প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নির্দিষ্ট ভোটার তার ভোট দেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়ে ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রতিটি ভোটার কাগজ পাওয়ার পর যেখানে ভোট প্রদান করবে সেখানটি এমন দুরস্ত স্থাপন করা হবে যে ভোটারকে প্রভাব ফেলতে না পারে। (৬) ৩শত নির্বাচনী এলাকায় ১ দিনে নির্বাচন হলে নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ৫ জন পুলিশ ও ৫ জন আনসার দ্বারা নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সন্ত্রাসী, মাস্তান, টাকাওয়ালাদের প্রভাব বিস্তার করতে পারে ভোট সঠিক হয়। সাধারণ ভোটাদের আশা আকাঙ্খা প্রতিফলন হয় না। (৭) প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটারদের বিভিন্ন প্রকারে বায়াস করতে পারবে বা ভোট কেন্দ্রের আশপাশের প্রভাবশালী ব্যক্তির সন্ত্রাসী-মাস্তানদের প্রধান্য যাতে ভোটাররা অন্যায় করতে বাধ্য না হয়। (৮) প্রতিটি রাজনৈতিক সংগঠন বা প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় যারা মনোনয়নের জন্য নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন ফরম ক্রয় করতে পারে ঐদিনই প্রতিটি রাজনৈতিক সংগঠন বা মনোনয়ন প্রার্থী তার নির্বাচনী ইশতেহার জমা দিবেন। যাতে পরে যার যার ইশতেহার নির্বাচন কমিশন ও ভোট প্রার্থী কর্তৃক ভোটারদের কাছে প্রচার করতে পারে দেশ উন্নয়ন করা ও পরিচালনার কর্মসূচি। (৯) ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের কর্মসূচি ঘোষণার দিন থেকে ভোট গ্রহণের সাত দিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সংবিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে কাজ করবেন যাতে প্রতিটি ভোটার তার ভোট নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করতে পারে। প্রতিটি জনগণ অন্যায় কর্মকাণ্ড থেকে মুক্তি পায় ও শান্তি অবস্থায় রাখতে পারে এলাকা। (১০) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের পর দিন থেকে এলাকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়, আদালত বন্ধ রাখতে হবে ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত। বন্ধকৃত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের/কর্মকর্তাগণের বিশেষভাবে ক্ষমতা দিয়ে সব এলাকায় নিরাপত্তার আওতায় আনতে হবে। যাতে কোন প্রকার অন্যায় কাজ ঘটতে না পারে। কিন্তু প্রতিটি পুলিশ এমটেশন থাকবে সচেতন মানবিক।
প্রবন্ধ লেখক
এম.এ জলিল
সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ

