মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও বন্যায় বিপর্যস্ত রাঙ্গামাটির দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিল রাঙ্গামাটি সদর জোন। এদিন জোনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৮০টি পরিবারের হাতে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটি সদর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, পিএসসি সকালে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র, সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ আশ্রয়কেন্দ্র এবং কাউখালী উপজেলার আরটিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঘাগড়া আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত নারী, শিশু ও বয়স্কদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক অবস্থা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শন শেষে তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত ৮০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মোট ২০৪ জন সদস্যের মাঝে চাল, ডাল, তেল, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর এ মানবিক সহায়তা পেয়ে দুর্গত পরিবারগুলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প ও ঘাগড়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার, সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাঙ্গামাটি সদর জোন জানিয়েছে, চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে উদ্ধার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ এবং ত্রাণ সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এই মানবিক কার্যক্রম চলবে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

