হাউজিংয়ের এমডিকে মারধর করে চেক ও স্ট্যাম্পে সই, ভিডিও ভাইরাল

0
11

বরিশালে অগ্রণী হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) অফিস রুমে আটকে মব সৃষ্টি করে মারধর এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও চেকে সই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

এর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে দুটি চেক এবং কয়েকটি স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নিচ্ছেন এক ব্যক্তি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিডিওটি গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারের কার্যালয়ের ঘটনা। যা রেকর্ড হয়েছে রুমের ভেতরে থাকা সিসি ক্যামেরায়।

তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়টি অকপটেই স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু। তবে এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয় বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি জোর করে স্ট্যাম্প এবং চেকে সই নিইনি। ভিডিওতে দেখা আর বাস্তব এক জিনিস না। যেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া হয়েছে সেটা কাটিং করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে আরও ঘটনা আছে। এতে আমার কিছুই হবে না। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য এই ভিডিও ছড়ানো হয়েছে।

বরিশাল নগরীর কাটপট্টি রোড এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেন, ভিডিওতে যা দেখা যাচ্ছে সব ঠিক আছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই কাজটি করতে হয়েছে। আব্দুল আজিজ হাওলাদার আমাদের সাথে হাউজিং ব্যবসায় প্রতারণা করেছে।

তিনি বলেন, আমি অগ্রণী হাউজিংয়ের একজন পরিচালক। আমার হিসাব অনুযায়ী এমডির কাছে ৫৪ লাখ টাকা পাব। কিন্তু সে দাবি করছে ৩৬ লাখ টাকা পাব। এ নিয়ে অনেক দিন ধরেই ঝামেলা চলছে। বিগত আমলে অফিসে ডেকে নিয়ে জামায়াত বলে আমি এবং তার আপন ভাইকে পর্যন্ত পুলিশ দিয়ে হয়রানি করিয়েছে।

লিটু বলেন, হাউজিংয়ের আরেকজন পরিচালক মিজান এক কোটি ৭০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে। এর পেছনেও এমডির হাত রয়েছে। এমনকি এমডির আপন ভাইয়েরাও তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছে।

টাকা লেনদেনের বিষয়ে কোনো মামলা বা থানায় অভিযোগ করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে লিটু জানান, তার আপন ছোট ভাই মামলা করেছে। আমরা স্বাভাবিকভাবে বিষয়টি সমাধান করতে চেয়েছিলাম।

এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি অগ্রণী হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদার।

লিটুর বড় ভাই বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মাহাবুবুর রহমান পিন্টু বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যতটুকু জানি লিটু অগ্রণী হাউজিংয়ের সাথে ব্যবসা করে। এর বাইরে কিছু জানা নেই।

বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও আমি দেখেছি। তবে এই ঘটনায় থানায় এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here