টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা শহরের ‘আল মদিনা ক্লিনিকে’ ভুল অ্যানেসথেসিয়ায় চাঁদনি নামে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই হাসপাতালে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
শনিবার (৪ জুলাই) এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ধনবাড়ী থানার ওসি নূরুস সালাম সিদ্দিকী। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত আল মদিনা হাসপাতালে টনসিল অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হয় শিশুটিকে।
চাঁদনি উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নের সয়া গ্রামের আপনের মেয়ে।
চাঁদনির স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে জ্বর এবং গলার টনসিলের লক্ষণ নিয়ে ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নের সয়া গ্রামের আপন মিয়ার চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া চাঁদনিকে আল মদিনা ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। এসময় ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে হাসপাতালের ম্যানেজার রাশেদুজ্জামান চাঁদনিকে টনসিল অপারেশনের চুক্তি করেন। এতে ওই হাসপাতালের একজন নার্স চাঁদনির শরীরে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। এরপর চাঁদনি অচেতন হয়ে পড়ে।
তখন অপারেশন না করে শিশুটিকে পর্যবেক্ষণের জন্য অপারেশন টেবিলে টানা দুই ঘণ্টা ফেলে রাখেন। রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসক ও ম্যানেজার চাঁদনিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বজনদের পরামর্শ দিয়ে গা ঢাকা দেন। স্বজনরা অজ্ঞান অবস্থায় চাঁদনিকে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফারহান চাঁদনিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির দাদি মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন,
ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মামুন হোসেন বলেন, ওই ক্লিনিকেই শিশুটি মারা যায়। শিশুটি সম্ভবত ভুল অ্যানেসথেসিয়ার শিকার হয়েছিল।
এদিকে শনিবার ‘আল মদিনা ক্লিনিকে’ সরেজমিনে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং হাসপাতালে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। পরে হাসপাতালের ব্যবস্থাপক রাশেদুর জামানের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তাছাড়া হাসপাতালের কর্ণধার ডা. হাফিজুর রহমানের মোবাইলও বন্ধ পাওয়া গেছে।
এতে স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।
ধনবাড়ী থানার ওসি নুরুস সালাম সিদ্দিক জানান, ভুল চিকিৎসায় মৃত্যূর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা হাসপাতালে হামলা চালায়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। তবে ভিকটিমের পরিবার লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরজাহান আক্তার সাথী বলেন, কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া না গেলেও এমন ফৌজদারি অপরাধের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন নিজ উদ্যোগে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। সেই অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

