ইউরোপের দানিউব নদীতে পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডুবে যাওয়া বেশ কয়েকটি জার্মান যুদ্ধজাহাজের ধ্বংসাবশেষ পানির ওপর দৃশ্যমান হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মূলত সার্বিয়ার প্রাহোভো এলাকার কাছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, তীব্র খরা ও ধারাবাহিক তাপপ্রবাহের কারণে দানিউবের পানি অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এর ফলে নদীর তলদেশে প্রায় ৮০ বছর ধরে থাকা জার্মান যুদ্ধজাহাজগুলোর মরিচাধরা কাঠামো প্রকাশ্যে এসেছে।
কীভাবে নদীতে ডুবেছিল জাহাজগুলো?
ঘটনার সূত্রপাত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে। ১৯৪৪ সালে সোভিয়েত বাহিনী অগ্রসর হলে নাৎসি জার্মানির কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের জাহাজগুলো পিছু হটতে থাকে। জার্মান বাহিনী শত্রুর হাতে জাহাজগুলো পড়া ঠেকাতে দানিউবের প্রাহোভো এলাকার কাছে অনেকগুলো জাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ডুবিয়ে দেয়। একই সঙ্গে নদীপথে চলাচল বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যও ছিল।
বিভিন্ন নথি ও প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় প্রায় ২০০টি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থাকার অনুমান করা হয়। তবে সবগুলো একই ধরনের যুদ্ধজাহাজ নয়—এর মধ্যে কার্গো জাহাজ, টাগ ও বার্জও ছিল।
এখন কেন দেখা যাচ্ছে?
২০২৬ সালের গ্রীষ্মে দানিউবের পানির স্তর নজিরবিহীনভাবে নেমে যাওয়ায় নদীর বালুচর ও তলদেশের বিভিন্ন অংশ প্রকাশিত হচ্ছে। এর সঙ্গে পুরোনো জাহাজের ধ্বংসাবশেষও পানির ওপর উঠে এসেছে। এর আগেও ২০২২ ও ২০২৪ সালের তীব্র খরার সময় একই এলাকায় এমন ধ্বংসাবশেষ দেখা গিয়েছিল।
এখনো কি জাহাজে অস্ত্র রয়েছে?
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিছু ধ্বংসাবশেষে এখনো অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বা যুদ্ধের অবশিষ্ট বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে জাহাজগুলো সরানোর কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সার্বিয়া ও ইউরোপীয় অংশীদাররা ২১টি ঝুঁকিপূর্ণ ধ্বংসাবশেষ অপসারণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালেই ওই এলাকার প্রথম একটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়েছিল। পুরো প্রকল্পের লক্ষ্য দানিউবের নৌপথকে আরও নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগী করা।
ফ্যাক্টচেকের রায়
E_07

