স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও টেলিভিশনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের ভাষা শেখা, কথা বলা এবং যোগাযোগ দক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। বিশেষ করে জীবনের প্রথম তিন বছরে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুর স্বাভাবিক ভাষা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু যত বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে কাটায়, ততই বাবা-মা বা অভিভাবকের সঙ্গে তার সরাসরি কথোপকথন কমে যায়। ফলে নতুন শব্দ শেখা, বাক্য গঠন এবং সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা প্রত্যাশিত হারে বিকশিত হয় না।বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাষা শেখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শিশুর সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলা, গল্প শোনানো, গান গাওয়া এবং খেলাধুলার মাধ্যমে যোগাযোগ করা। শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ভিডিও দেখানো এই ঘাটতি পূরণ করতে পারে না, বিশেষ করে যদি শিশুটি একা স্ক্রিন ব্যবহার করে।
তবে গবেষকরা এটিও উল্লেখ করেছেন যে সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার সমান ক্ষতিকর নয়। অভিভাবকের উপস্থিতিতে বয়স-উপযোগী শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেখা তুলনামূলকভাবে ভালো হতে পারে। তাই শুধু স্ক্রিনে কাটানো সময় নয়, কী ধরনের কনটেন্ট দেখা হচ্ছে এবং শিশুর সঙ্গে কতটা পারিবারিক যোগাযোগ হচ্ছে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন ব্যবহারে সীমা নির্ধারণ করা, প্রতিদিন নিয়মিত গল্প বলা, একসঙ্গে খেলা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করলে ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
E_04

