শ্যামনগর(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ শ্যামনগরে অবৈধভাবে গড়ে উঠছে
ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল। অনুমোদনহীন এসব
ক্লিনিকে লাইসেন্স বছরের পর বছর নবায়ন হচ্ছে না।
শ্যামনগরের অলিতে গলিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠছে ক্লিনিক,
ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল। অনুমোদনহীন এসব ক্লিনিকে
লাইসেন্স বছরের পর বছর নবায়ন হচ্ছে না। হাসপাতাল পরিচালনার
অনুমোদন নিয়ে অনেকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে বসেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতালের একশ্রেণীর চিকিৎসককে
কমিশনের ফাঁদে ফেলে রোগীকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগ
নির্ণয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে শ্যামনগর
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাই বেশি প্রতারিত
হয় বলে অভিমত এলাকাবাসীর ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার ৫লক্ষ মানুষ ছাড়াও
নিকটস্ত উপজেলা কালিগঞ্জ,আসাশুনি,কয়রা থেকে রোগীরা চিকিৎসা
নিতে আসছে শ্যামনগরে । শ্যামনগর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের পাশাপাশি ছাড়াও
নওয়াবেকী,মুন্সীগঞ্জ,নুরনগর,ভেটখালী,বংশীপুর এলাকায় ৫০টির মত
অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে।
অধিকাংশই শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন অবৈধ ক্লিনিক ও
ডায়গনষ্টিক সেন্টারগুলোর অবস্থান।শ্যামনগরে কিছু কিছু অবৈধ
ক্লিনিক বা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার রয়েছে তারা বিভিন্ন এলাকা
থেকে ডাক্তার নিয়ে আসছেন ও প্রচার দিচ্ছেন মাত্র ২শ টাকার
বিনিময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে
রোগী গেলে সেখানে পরিক্ষা দেওয়া হচ্ছে ৪/৫হাজার টাকার ।কোন
ক্লিনিকে গর্ভবতী রোগী গেলে তাকে পরিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কয়েক
হাজার টাকার এর পর ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে বলে দেওয়া হচ্ছে
আল্ট্রাসনোতে বাচ্ছার ওজন যাই থাকুক ২৫শ গ্রাম লিখে দিতে হবে।
কোন কোন সময় দেখা যায় বাচ্চার ওজন হয়েছে ১৫শ গ্রাম কিন্ত
ডায়াগনষ্টিক সেন্টার লিখে দিচ্ছে ২৫শ গ্রাম ।এভাবে সিজার করার পর
মা ও বাচ্ছা নানান রোগে ভুগছে অনেক সময় মৃত্যুও হচ্ছে মা ও বাচ্ছার
।অপারেশনের পূর্বে চুক্তি করছে একরকম অপারেশনের সময় বলা হচ্ছে
রোগীর জরায়ুতে টিউমার বা অন্যান্য অনেক সমস্যা হয়েছে যে গুলো
অপারেশন না করলে জঠিল সমস্যা দেখো দেবে এমন ভাবে ভয় দেখানো
হচ্ছে যে রোগীর অভিভাবকরা ভয় পেয়ে গরুছাগল হাস মুরগী বিক্রি করে
টাকা নিয়ে ক্লিনিকে দিচ্ছেন।ফলে রাগীর অভিভাবকরা হচ্ছে সর্বশান্ত
।জয়েন্টে ব্যথার রোগী এলে ডাক্তার না দেখিয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ১শ
টাকা দিয়ে ডিপোমেড্রল ইনজেকশন কিনে পুশ করে দিয়ে ২/৩ হাজার
টাকা করে নিতে দেখা যাচ্ছে।খোজ নিয়ে জানাগেছে ঐ ইনজেকশন
গুলো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়া লিখতে পারে না অথচ তা মানছে না
ক্লিনিকগুলো।
সরকারি তালিকায় যেসব প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে তাদের
বেশির ভাগ বছরের পর বছর লাইসেন্স নবায়ন করছে না। হাসপাতাল
পরিচালনার অনুমোদন নিয়ে অনেকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে
বসেছেন। এছাড়া এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ল্যাবে নেই কোনো
ডিপ্লোমাধারী টেকনিশিয়ান, নার্স ও প্রশিক্ষিত আয়া।
সার্বক্ষণিক চিকিৎসক দেখানো হয় কেবল খাতায়, আয়াদের নার্সের
পোশাক পরিয়ে রোগীর সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। অনেক ল্যাবে ভুয়া
রিপোর্ট দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। একজন চিকিৎসক বা পরীক্ষকের
প্যাড ও সিল ব্যবহার করে রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে অসংখ্য ডায়াগনস্টিক
সেন্টার থেকে। বাস্তবে একজন পরীক্ষকের পক্ষে এত ল্যাবে গিয়ে এসব
রিপোর্ট দেখা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স
অ্যাসোসিয়েশন শ্যামনগর উপজেলা শাখার সভাপতি বলেন, ‘আমরা
অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ল্যাব বন্ধ করার পক্ষে। স্বাস্থ্য বিভাগ চাইলে
অনুমোদনহীন ও মানহীন হাসপাতাল ক্লিনিক সিলগালা করে দিতে
পারে।’
শ্যামনগর স্বাস্থ্যকম্পপ্লেক্সের প্রধান ডা. মো. জিয়াউর রহমান বলেন,
‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলার অনুমোদনবিহীন প্রাইভেট
হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে তালিকা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত
পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

