রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা যাচাইয়ে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।
রোববার (১১ অক্টোবর) শুরু হওয়া এ পরিদর্শনে ইউনিট-১-এর কারিগরি সক্ষমতা, পরিচালনাগত প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়।
রূপপুর পারমাণবিক পরিচালনাকারী এনপিসিবিএল রোববার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এনপিসিবিএল এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ উপলক্ষে সকালে রূপপুর প্রকল্পের প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মিলনায়তনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান, সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশেষজ্ঞ এবং ভিও-সেফটির বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
পরিদর্শনকালে ইউনিট-১-এর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে বিভিন্ন কারিগরি ও পরিচালনাগত বিষয় যাচাই করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থার কার্যকারিতা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, পরিচালনাগত প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হবে।
১১ অক্টোবর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ পরিদর্শন চলবে। পরিদর্শন শেষে প্রাপ্ত তথ্য ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হবে। এরপর পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে রোববার বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট সফলভাবে রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করে। এর মধ্য দিয়ে ইউনিটটিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়। এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই পরিদর্শনকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এমডি ড. জায়েদুল হাসান বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং বা চালুকরণ কার্যক্রমে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষা, পরিদর্শন ও পরবর্তী কার্যক্রম অনুমোদিত পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হবে।

