হজযাত্রীদের প্রস্তুতি কেমন হবে এ নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন সাংবাদিক ফেরদৌস ফয়সাল। যিনি টানা ২২ বছর হজ পালন করেছেন। তিনি হজযাত্রীদের জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন।
- হজযাত্রীদের নিজ নিজ এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের তারিখ নিশ্চিত করতে হবে। আগে মক্কা নাকি মদিনা যাবেন তা জেনে পরিকল্পনা করা জরুরি। এতে ইহরাম, পোশাক ও সময় ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হবে।
- হজের hajj.gov.bd ওয়েবসাইটে ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে নিজের তথ্য যাচাই করতে হবে। নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ফ্লাইট ও আবাসনের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত। হজের খাত অনুযায়ী (বিমানভাড়া, মক্কা মদিনার বাড়িভাড়া, খাবার, যাতায়ত ইত্যাদি) খরচ সর্ম্পকে সচেতন থাকতে হবে। সৌদিতে খরচ করার জন্য প্রয়োজনীয় রিয়াল কেনা অথবা ব্যাংক এটিএম কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।
- হজে যাওয়ার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। পাশাপাশি নির্ধারিত টিকা গ্রহণ করতে হবে। সারা দেশে ৮০টি টিকা কেন্দ্র থেকে এসব টিকা দেওয়া হচ্ছে।
- হজের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল আগে থেকেই সংগ্রহ করা উচিত। ‘রুট টু মক্কা’ ব্যবস্থার কারণে লাগেজ সরাসরি মক্কা বা মদিনার আবাসনে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাই হাত ব্যাগে দুই থেকে তিন সেট কাপড়, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি জিনিস রাখা দরকার। মোবাইল ব্যবহার করলে চার্জার, সিম, হজ প্যাকেজ, রোমিং বিস্তারিত জেনে নিন।
- হজের প্রশিক্ষণ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে হজের ধাপ, দোয়া, করণীয় ও নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। মক্কা-মদিনা ইসলামের ঐতিহাসিক স্থান, দোয়া কবুলের স্থান সম্পর্কে জানা এবং বেড়ানো যায়।
- কোন ধরনের হজ পালন করবেন তা আগে ঠিক করতে হবে। তামাত্তু, ইফরাদ ও কিরান এই তিন ধরনের হজ রয়েছে। বেশিরভাগ হজযাত্রী তামাত্তু হজ পালন করেন।
- পুরো হজের সফরে দরকার ধৈর্য্য। দমে শোকর বা কোরবানির জন্য প্রায় ৭২০ সৌদি রিয়াল প্রয়োজন হয়।
- হজের পঞ্চম দিন। হজের ধাপ সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা, পুনরায় মিনা, এরপর কাবা তাওয়াফ এবং আবার মিনায় অবস্থান, জামারাত পাথর নিক্ষেপ এই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করতে হয়। মিনা, আরাফাতের ম্যাপ সংগ্রহ করা উচিত। ভীড়ের কারণে রাস্তায় হারিয়ে যেতে পারেন। তাঁবু কার্ড গলায় ঝুলানো ও দলবদ্ধ-ভাবে চলাফেরা করতে হবে।
- মদিনায় অবস্থানের সময় নুসুক অ্যাপ ব্যবহার করে রিয়াজুল জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি নিতে হবে। আগে থেকে স্লট বুক করলে সুবিধা হয়।
- জমজমের পানি সংগ্রহ এবং দেশে ফেরার সময় ব্যাগেজ নিয়ম মেনে চলতে হবে। এয়ারলাইন্সের নির্দেশনা অনুযায়ী লাগেজ প্রস্তুত করলে ঝামেলা কম হয়। সম্ভব হলে আপনার হজের অভিজ্ঞতা লিখে রাখতে পারেন।
হজযাত্রীদের জন্য এসব প্রস্তুতি আগেভাগে সম্পন্ন করলে সফর সহজ ও স্বস্তিদায়ক হবে। পরিকল্পিত প্রস্তুতি হজ পালনে মানসিক শান্তি ও শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করবে।


