সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সি শিশুরাও এনআইডি সেবার আওতায় আসবে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কমিশনের এক বৈঠকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের এনআইডি নিবন্ধনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। বৈঠকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সি শিশুদের নিবন্ধন কার্যক্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শুরু করার প্রস্তাব দেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে এনআইডি নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এর ফলে অল্প বয়স থেকেই নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রয়োগ কমিটি’র সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ একটি কর্মশালা আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছেন। কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সুপারিশ তৈরি করে কমিশনে উপস্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনআইডি মহাপরিচালককে।
বর্তমানে ১৭ বছর বয়স থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা দিয়ে আসছে নির্বাচন কমিশন। তবে এর চেয়ে কম বয়সি নাগরিকদেরও এনআইডি নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন বিভিন্ন মহল। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিশুদের এনআইডি নিবন্ধনের পথ আরও সহজ হতে পারে।
এদিকে সর্বশেষ ভোটার তালিকার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৬৭ জন।
তবে ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সি শিশুদের এনআইডি নিবন্ধন কবে নাগাদ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেনি নির্বাচন কমিশন।
E_03

