কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়ে নজিরবিহীন পতনের মুখে পড়ার পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শেয়ারবাজার। এআই প্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের আশঙ্কায় বড় ধরনের দরপতনের পর যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের ইতিবাচক তথ্য প্রকাশের ফলে শুক্রবার মার্কিন শেয়ারবাজারে পুনরুদ্ধারের প্রবণতা দেখা যায়।
এআই প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা মন্থর হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছিলেন। এর ফলে নাসডাকসহ প্রধান প্রযুক্তি সূচকগুলোতে ব্যাপক পতন ঘটে। তবে শুক্রবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ কর্মসংস্থানের ইতিবাচক তথ্য প্রকাশের পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার এআই খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে চিপ ও সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ওই দিন প্রযুক্তিপ্রধান নাসডাক কম্পোজিট সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়।
তবে শুক্রবার নাসডাক কম্পোজিট সূচক ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দিন শেষ করে। এতে আগের দিনের ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে যায়। এ ছাড়া শীর্ষ মার্কিন কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্য পরিমাপক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে বন্ধ হয়েছে।
বাজারে বড় ধরনের পতনের মধ্যে বৃহস্পতিবার শত শত বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারানো এনভিডিয়া, স্পেসএক্স ও টেসলার মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার শুক্রবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে পরিস্থিতি ছিল নেতিবাচক। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক শুক্রবার ৬ শতাংশ পতনের মুখে পড়ে। দেশটির চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দর কমে যায় ১০ শতাংশেরও বেশি।
ইউরোপীয় বাজারেও একই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেনের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলো পতনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহের লেনদেন শেষ করে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান কোম্পানিগুলোর সূচক এফটিএসই ১০০ কমে যায় ১ দশমিক ০১ শতাংশ।
E_02

