রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, তিনটি মামলার মধ্যে একটি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে, একটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এবং অপরটি ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।
কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সিটি করপোরেশনের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে করা মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে অভিযান চলছিল।
অভিযানের একপর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষ বাধে। হকাররা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
সংঘর্ষের মধ্যে সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। এ কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়েও গণমাধ্যমকর্মীরা বাধার মুখে পড়েন।পরে দুপুরের দিকে আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়।দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলো পরিদর্শন করেন।
পরে তিনি বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
E_10

