নোয়াখালীতে ‘ভুল চিকিৎসায়’ ১৩ বছরের শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, চক্ষু হাসপাতাল বন্ধ

0
3

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী সদর উপজেলায় একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসায়’ ১৩ বছরের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে কাউকে না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছেন সিভিল সার্জন। এ ঘটনায় হাসপাতালের এক কর্মকর্তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নোয়াখালী পৌরসভার দত্তেরহাট এলাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম মো. মোসলেম। সে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। তাদের বাড়ি নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায়।

স্বজনদের অভিযোগ

শিশুটির স্বজনরা জানান, শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় এক শিশুর আঘাতে মোসলেমের চোখে গুরুতর জখম হয়। এতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে যায়। পরে তাকে চেউয়াখালী বাজারের এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তিনি গুরুতর জখমের কথা জানিয়ে চক্ষু হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এরপর মোসলেমকে দত্তেরহাটের ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে ‘বড় ডাক্তার’ আসার কথা বলে তাদের প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করানো হয়। পরে আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি এসে শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান।স্বজনদের দাবি, সেখানে শিশুটির চোখে তিনটি ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় আবুল হোসেন শিশুটিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

পরে স্বজনরা তাকে সঙ্গে নিয়ে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

কী বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে ১৩ বছরের একটি শিশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।এদিকে পুলিশ হেফাজতে থাকা আবুল হোসেন নিজেকে ডিপ্লোমাধারী সিনিয়র অপটোমেট্রিস্ট দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, শিশুটির চোখের ওপর ও নিচের পাতা বেশ ফুলে ছিল। ভেতরের কর্নিয়া পরীক্ষা করার জন্য আপার লিড ও লোয়ার লিডে ‘জেসোকেইন’ ইনজেকশন দেওয়া হয়।

আবুল হোসেনের দাবি, ইনজেকশন দেওয়ার আগে শিশুটি বমি করে। এরপর তার খিঁচুনি শুরু হয়। পরে তাকে নোয়াখালী সদরের দিকে নেওয়া হয়।

অপটোমেট্রিস্টের সার্জারি করার সুযোগ নেই: সিভিল সার্জন

নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, অপটোমেট্রিস্টদের সার্জারি করার সুযোগ নেই। তারা চোখ পরীক্ষা ও সাধারণ চশমার প্রেসক্রিপশন দিতে পারেন; তবে সার্জারি করতে পারেন না।ঘটনার পর ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, নিহত শিশুর স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগেও বন্ধ করা হয়েছিল হাসপাতালটি

ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের বিরুদ্ধে আগেও অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলার সদ্যবিদায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাইমা নুসরাত জাবীন।তিনি বলেন, নানা অনিয়ম পাওয়ায় ২০২৪ সালের ৮ জুন অভিযান চালিয়ে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

E_10

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here