নেহা বোরা–অভিজিৎ দীপককে ঘিরে ভারতে নতুন আলোচনা

0
4

ভারতের ছাত্র ও যুব আন্দোলনের দুই আলোচিত মুখ নেহা বোরা ও অভিজিৎ দীপককে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এক্সে এক পোস্টে নেহা বোরাকে অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে তুলনা করে তাকে বেশি পরিণত ও প্রতিভাবান বলে মন্তব্য করা হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

‘অ্যামক’ নামের এক ব্যবহারকারী এক্সে নেহা বোরার একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, অভিজিৎ দীপকের তুলনায় নেহা বেশি প্রতিভাবান। একই পোস্টে নেহাকে জেন-জি প্রজন্মের একজন আইকন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

পোস্টটি পুনঃশেয়ার করে অভিজিৎ দীপক লেখেন, ‘আমি এর সঙ্গে একমত।’ পরে নেহার একটি বক্তব্যের জবাবে তিনি লেখেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’ তাদের এই কথোপকথনের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

এর আগে সিজেপির আন্দোলনের সময় দিল্লির যন্তর মন্তরে এক বিক্ষোভে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেহা বোরা অভিজিৎ দীপকের প্রশংসা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দীপক অত্যন্ত বিনয়ী এবং অন্যদের পরামর্শ গ্রহণে প্রস্তুত থাকেন। আন্দোলনকারীদের তিনি বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, তিনিও তাদের মতোই এই সংগ্রামের একজন ছাত্র ও সহযোদ্ধা।

দিল্লির আন্দোলনে নেহা

ভারতের ছাত্র রাজনীতিতে পরিচিত মুখ নেহা বোরা বর্তমানে দিল্লিতে সমর্থকদের নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন। সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে রক্তক্ষরণ হলে কলকাতা উঠে দাঁড়ায়, কলকাতার রক্ত বইলেও দিল্লি পাশে থাকবে।’

ওই সময় নেহার গলা ভাঙা ছিল এবং কথা বলতে তাকে শারীরিকভাবে অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায়। তিনি সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-এর সভাপতি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার এক দিন আগে দিল্লিতে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের হাতে আটক হন নেহা। পরে তাকে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের নারেলা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে টানা দুই দিন দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে নেহা বলেন, ‘আমার গলা ও শরীরের অবস্থা যেমন ভেঙে পড়েছে, তেমনই অবস্থা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও এসআরএফটিআইয়ের।’

যেভাবে আলোচনায় নেহা

নেহা বোরার ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়তা শুরু হয় ২০২৬ সালের জুলাইয়ে। সে সময় ভারতে মেডিকেল কলেজে ভর্তির পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। ওই আন্দোলনে অভিজিৎ দীপক ও সোনম ওয়াংচুকের পাশাপাশি নেহা বোরা আলোচনায় আসেন।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ওই আন্দোলনের সমর্থনে কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে অনশনেও অংশ নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন নেহা।

নেহার নেতৃত্বাধীন আইসা সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়।

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে রাঁচিতে যাওয়ার পরও নেহা নতুন করে আলোচনায় আসেন। ওই সময় তার মুখে কালি ছুড়ে দেওয়া হয়। তবে এতে দমে যাননি তিনি।

নেহা বলেছিলেন, মুখে কালি ছুড়ে দিলে তিনি ভয় পাওয়ার মানুষ নন। দিল্লির আন্দোলনের সময়ও তিনি পুলিশি লাঠিচার্জ ও প্যালেট গানের মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি করেন।

পরে বিহারে গিয়েও আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন তিনি। কয়েক বছর ধরে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় নেহা বর্তমানে ভারতের চলমান ছাত্র ও যুব আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত মুখ। তার বিভিন্ন বক্তব্য ও আন্দোলনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন

এবার দিল্লিতে নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছেন নেহা বোরা ও তার সমর্থকেরা। তাদের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে।

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ হারাতে পারেন বলে তাদের দাবি।

এদিকে ভারতীয় সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।

বিজেপি-সমর্থক পরিবারে বেড়ে ওঠা

নেহা বোরা এমন একটি পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সমর্থন রয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে তার মতাদর্শগত পার্থক্য নিয়ে অনেক সময় বাড়িতে মতবিরোধ হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে আসার পর রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সঙ্গে এসব বিষয়ে মতপার্থক্যও শুরু হয়। কখনো পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও পড়াশোনা, অর্থনৈতিক বিষয় ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তিনি স্বাধীনতা পেয়েছেন বলে জানান। স্নাতক পড়াশোনার দ্বিতীয় বা তৃতীয় বর্ষে তিনি এই স্বাধীনতা পান বলেও উল্লেখ করেন।

নেহার মতে, সিজেপির আন্দোলনের গুরুত্ব শুধু তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়। তার বিশ্বাস, ওই আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণরা বুঝতে পেরেছে—একে অপরের বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে পাশে দাঁড়ালে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

যন্তর মন্তরের আন্দোলন থেকে তৈরি হওয়া উদ্দীপনা অন্যান্য আন্দোলনেও ছড়িয়ে পড়ুক—এমনটাই চান নেহা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর, নির্বাচনক্ষেত্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন, শ্রমিকদের অধিকার এবং নারীদের সংরক্ষণের মতো বিষয়েও আন্দোলন গড়ে তোলার পক্ষে তিনি।

নেহার কাছে এসব আন্দোলন আলাদা আলাদা দাবি আদায়ের কর্মসূচি নয়। তিনি এগুলোকে ভারতের গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ও ধর

E_09

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here